Dangerous Animals – ২০২৫
২০২৫ সালের Dangerous Animals একটি সারভাইভাল হরর ফিল্ম, পরিচালনা করেছেন শন বায়র্ন এবং লিখেছেন নিক লেপার্ড। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন হ্যাসি হ্যারিসন, জশ হিউস্টন, রব কার্লটন, এলা নিউটন, লিয়াম গ্রেইঙ্কে এবং জাই কোর্টনি। ছবিটি প্রথম প্রদর্শিত হয় ২০২৫ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবের ডিরেক্টর্স’ ফোর্টনাইট বিভাগে, ১৭ মে। মুক্তি পায় যুক্তরাষ্ট্রে ৬ জুন ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম কোম্পানি ও শাডার–এর পরিবেশনায় এবং অস্ট্রেলিয়ায় ১২ জুন কিসমেট মুভিজের মাধ্যমে। ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ৭.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গল্পের শুরু হয় এক জায়গা থেকে, যেখানে পর্যটক গ্রেগ ও হিদার আসে টাকার’স এক্সপেরিয়েন্স-এ। এটি একটি শার্ক কেজ আকর্ষণ, পরিচালনা করে রহস্যময় নৌকাচালক টাকার। যাত্রাপথে টাকার জানায়, শৈশবে সে এক ভয়ংকর হাঙরের আক্রমণ থেকে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল—যা তার শরীর ও মানসিকতায় স্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করেছে। কেজ ডাইভের পর হঠাৎ করেই সে গ্রেগকে হত্যা করে এবং হিদারকে বন্দি করে।
অন্যদিকে গোল্ড কোস্টে পরিচিত হয় আমেরিকান পথিক জেফির এবং রিয়েল এস্টেট এজেন্ট মজেস। সার্ফিংয়ের প্রতি সমান ভালোবাসা তাদেরকে একে অপরের কাছে টেনে আনে, এমনকি এক রাত একসাথে কাটায়। কিন্তু মজেসের প্রেমের আশা পূর্ণ হয় না—জেফির আবার সমুদ্রের দিকে যাত্রা করে। সেখানে তার মুখোমুখি হয় টাকার, যে তাকেও অপহরণ করে নিয়ে যায় নিজের নৌকায়।
জেফির জ্ঞান ফেরে এক অন্ধকার কক্ষে, শিকলে বাঁধা, আর সেখানেই দেখতে পায় হিদারকেও। উপরের কক্ষ থেকে জানা যায়, টাকার এভাবে বহু নারীকে বন্দি করেছে। রাতের অন্ধকারে দুজনকে মাদক খাইয়ে ডেকে আনে সে। জেফিরকে চেয়ারে বেঁধে রাখা হয়, আর হিদারকে ধীরে ধীরে নামানো হয় টোপভরা পানিতে, যেখানে হাঙরের ঝাঁক অপেক্ষা করছে। এক পুরোনো VHS ক্যামেরায় টাকার রেকর্ড করে হিদারের ভয়ংকর মৃত্যু। আসলেই সে এক সিরিয়াল কিলার, যিনি পর্যটকদের শিকার করে।
জেফির পালানোর চেষ্টা করলেও আবার ধরা পড়ে। টাকার নতুন ক্যামেরা আনতে তীরে গেলে মজেস সন্দেহপ্রবণ হয়ে নৌকায় আসে এবং জেফিরকে খুঁজে পায়। কিন্তু টাকার ফিরে এসে আক্রমণ করে, আর প্রতিবেশী ডেভকেও হত্যা করে, যে অজান্তে পর্যটক পাঠিয়ে এই অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল। মজেসকে হাঙরের সামনে ঝুলিয়ে দেয়া হয়, যদিও প্রথমে বেঁচে যায়। পরে টাকার ছুরি চালিয়ে তার রক্তে হাঙর টেনে আনে।
এরপর আসে রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত—জেফির আঙুল কামড়ে ফেলে পালায়, আবারও ধরা পড়ে, আবারও চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত তাকে নৌকার ডেকে নামানো হয় হাঙরের খাঁচায়। হঠাৎ এক বিশাল গ্রেট হোয়াইট শার্ক হাজির হয়, অন্য হাঙরদের সরিয়ে দিয়ে জেফিরকে অক্ষত রাখে। স্থির থাকা মানেই বাঁচা—সে সেই নিয়ম মেনে রক্ষা পায়।
ফিরে এসে সে মজেসের পাশে দাঁড়ায়, যে তখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। সাহস সঞ্চয় করে জেফির হাতে নেয় একটি স্পিয়ারগান এবং টাকারকে আঘাত করে। সমুদ্রে পড়ে টাকার নিজ ক্যামেরার সামনে হাঙরের খাবারে পরিণত হয়—নিজ হাতে বানানো ভয়ংকর খেলার শিকার হয়ে।
শেষ দৃশ্যে, জেফির পাশ দিয়ে যাওয়া একটি নৌকায় সাহায্যের সংকেত পাঠায়। রক্ত, ভয় আর মৃত্যুর ভেতর দিয়ে তারা দুজনই খুঁজে পায় জীবনের নতুন প্রতিশ্রুতি—ভবিষ্যতের দিকে একসাথে হাঁটার আশা।
✅ সার্বিক মূল্যায়ন
Dangerous Animals শুধুই এক হাঙরের ছবি নয়, বরং মানুষ বনাম মানুষ এবং মানুষ বনাম প্রকৃতির দ্বন্দ্বকে একত্রে হাজির করেছে। এটি ভয়ের পাশাপাশি মানবিক বোধ, বেঁচে থাকার লড়াই এবং সম্পর্কের শক্তি নিয়েও কথা বলে।
⭐ রেটিং: ৮/১০
👉 হররপ্রেমীদের জন্য অবশ্যই দেখা উচিত, বিশেষ করে যারা সমুদ্রভিত্তিক সারভাইভাল কাহিনি পছন্দ করেন।

Comments
Post a Comment